Blog

  • ঢাকাকে চাঁদাবাজ-মাদকমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান

    ঢাকাকে চাঁদাবাজ-মাদকমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান

    রাজধানীকে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়া চক্রমুক্ত করতে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

     

    রবিবার (৩ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

     

    তিনি বলেন, “ঢাকা মহানগরী আমাদের সবার। এই শহরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১ মে  থেকে ডিএমপি মহানগরজুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।”

     

    তিনি বলেন,“ সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন, অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএমপি তাৎক্ষণিকভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—অপরাধচক্রের মূল উৎপাটন, নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকাকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা।”

    তিনি জানান, চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ব্লক রেইড পরিচালনা গোয়েন্দা নজরদারী ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে।
    ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, “গত ৪৮ ঘণ্টার আমাদের উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত এবং ৯৪ জন তালিকা বহির্ভূত চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে চাঁদা আদায়ের খাতা, লেনদেনের তথ্য, ভিডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য আলামত।এছাড়া, মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

     

    অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, সার্ভার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার, নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসিলা ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।  এসব এলাকায় চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করছে। বাজার ও জনবহুল স্থানে দৃশ্যমান পুলিশিং বৃদ্ধি করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।”

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণ নতুন এলাকা চিহ্নিত করে আরও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
    তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্দেহজনক ব্যক্তি, চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া বা প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানাতে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

     

    সংবাদ সম্মেলনে  ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম, ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম  উপস্থিত ছিলেন।

  • ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

     

    রবিবার (৩ মে) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

     

     

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ জনগণের সঙ্গে প্রধান সেতুবন্ধন। জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে জন রায়ের প্রতিফলন ঘটে।”

     

    তিনি বলেন, “সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়।” দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

    জানা গেছে, সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

     

    এর আগে শনিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সম্মেলনের বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি।

    মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতি বছর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

  • যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

    যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

    যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

     

    রবিবার (৩ মে) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

     

     

    ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত দিনে দেশ ছিল আমদানিনির্ভর। আমরা সেই নির্ভরতা কমিয়ে আনতে কাজ করছি।”

     

    ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে জনরায়ের সঠিক প্রতিফলন হয় নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে।’

    জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি পদকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।”

     

    সুশাসনকে সরকারের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

    বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইচ্ছেমতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো, সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট রোধে নিয়মিত বাজার তদারকি করতে হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিয়মিত ও দৃশ্যমান করুন।”

     

    কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ শুরু করেছে।

    জুলাই সনদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।”

     

    চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। সম্মেলনে আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিরা অংশ নিয়েছেন।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল চীন, জ্বালানি আমদানিতে অনড় অবস্থান

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল চীন, জ্বালানি আমদানিতে অনড় অবস্থান

    ইরান থেকে তেল আমদানির অভিযোগ চীনের পাঁচটি বেসরকারি তেল শোধনাগারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষায় পাল্টা আইনি আদেশ জারি করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

     

    রবিবার (৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

     

     

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে মার্কিন অর্থ দপ্তর চীনের পাঁচটি তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে ইরানি সামরিক বাহিনীকে কয়েক শ’ কোটি ডলারের রাজস্ব জোগাতে সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যায় এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা যে কাউকে শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

     

    শনিবার (২ মে) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা একটি ‘প্রতিরোধমূলক আদেশ’ জারি করেছে। এই আদেশ অনুযায়ী, মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা চীনে স্বীকৃত হবে না এবং কোনো প্রতিষ্ঠান এটি মেনে চলতে বাধ্য নয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, মার্কিন এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশ্ব রাজনীতির মৌলিক রীতির পরিপন্থি। বেইজিং-এর মতে, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা সার্বভৌম দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

    চীনের এই আদেশের ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সুরক্ষা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি, শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল।

     

    আল-জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চীন তাদের প্রয়োজনীয় তেলের অর্ধেকেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে, যার একটি বড় অংশ আসে ইরান থেকে। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর মতে, ২০২৫ সালে ইরান যত তেল রপ্তানি করেছে তার ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে চীন।

    চীনের এই তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এগুলো সিনোপেক-এর মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশাল তেল কোম্পানিগুলোর তুলনায় সাধারণত আকারে ছোট। বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এই ছোট শোধনাগারগুলোই ইরান, রাশিয়া এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থেকে ছাড়ে তেল সংগ্রহ করে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।

     

    চীনের মোট শোধনাগার সক্ষমতার এক-চতুর্থাংশই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে। এসব প্রতিষ্ঠান খুব সামান্য লাভে কাজ করে এবং সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় এগুলো বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই শোধনাগারগুলো অতিরিক্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, বিশেষ করে তাদের উৎপাদিত পরিশোধিত পণ্যগুলো সঠিক উৎপত্তিস্থল বা অরিজিনাল মার্কিং ব্যবহার করে বিক্রি করার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

  • বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

    বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

    ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘিরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সারের চালান কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন ভয়াবহ মাত্রায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারের উচ্চমূল্য এবং ফসলের ফলন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আর এর প্রভাব সরাসরি খাদ্যপণ্যের দামের ওপর পড়তে পারে।

    কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিও ওই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। কারণ আমরা ফসল রোপণের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি।

    তিনি বলেন, এশিয়ার কিছু দেশে ইতোমধ্যে বীজ বপনের মৌসুম পেরিয়ে গেছে। এফএওর এই প্রধান বলেন, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো এমন সব ফসল চাষের দিকে ঝুঁকতে পারে; যা বেশি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে পারে। অর্থাৎ তারা গম ও ভুট্টা চাষ থেকে সয়াবিন চাষের দিকে সরে যেতে পারে।

    ‌‌‘‘অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু কৃষক জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকে পড়তে পারেন।’’

    তোরিও বলেন, গম ও সয়াবিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হবে এবং আমরা আশা করছি যে আগামী বছর পণ্যমূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    তিনি বলেন, আমরা উচ্চ পণ্যমূল্য এবং উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা করছি। কারণ আমরা যে খাবার গ্রহণ করি তা কেবল কাঁচামাল নয়… এর সঙ্গে জ্বালানির দামও জড়িত।

    সতর্ক করে দিয়ে এফএওর এই প্রধান বলেন, আমরা বারবার বলছি, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। ঘড়ির কাঁটা যত ঘুরছে এবং দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে, পরিস্থিতির তত অবনতি ঘটছে।

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • ন্যায়বিচার চাই, প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না : মঈন খান

    ন্যায়বিচার চাই, প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না : মঈন খান

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেছেন, আমরা ন্যায়বিচার চাই, প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চাই না। তিনি বলেন, যখনই আমরা গণতন্ত্রের পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি তখনই কোনো না কোনো আন্দোলন হয়েছে, ৭১ থেকে এখন পর্যন্ত নেতারা ভুল করেছে, কিন্তু জনগণ কোনো ভুল করে নাই। জনগণ প্রতিবাদ করে বারবার সংশোধনের পথে নিয়ে এসেছেন। ২৪-এ সেই প্রতিবাদের এনসিপি নেতৃত্ব দেয়। 

    =

    শনিবার (২ মে) এবি পার্টির ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে এক প্রতিনিধি সম্মেলন, শুভেচ্ছা বিনিময় ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    ড. মঈন খান বলেন, আজকের যারা এনসিপি তারাই কিন্তু গোল করেছেন। তাদের অর্জনে আমরা গর্বিত হয়েছি এবং যার ফলে আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পেয়েছি।

    তিনি বলেন, এবি পার্টির অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা হয়ে থাকবে। এবি পার্টি আজকে তাদের ২য় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এবি পার্টি গঠিত হয়েছে প্রতিবাদ থেকে। প্রতিবাদের মাধ্যমে এই দল বাংলাদেশে সামনেও ভূমিকা রাখবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা মনেপ্রাণে ধারণ করি।

    =

    এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আব্দুল কাদের, নাগরিক ঐক্যের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ্ কায়সার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামনুল হক, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, ন্যাপের সভাপতি জেবালুর রহমান গণি, শহীদ নাফিসা মারওয়ার পিতা আবুল হোসেন, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও শহীদ নাঈমার আম্মা আইনুন্নাহার।

    অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, মো. আলতাফ হোসাইন, আমিনুল ইসলাম এফসিএ ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।

  • রোববার শুরু হচ্ছে ডিসি সম্মেলন, আলোচ্য বিষয় হিসেবে যা যা থাকছে

    রোববার শুরু হচ্ছে ডিসি সম্মেলন, আলোচ্য বিষয় হিসেবে যা যা থাকছে

    চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার (৩ মে)। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হবে।

    শনিবার (২ মে) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।

    মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এবারের সম্মেলন ৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে; গত সম্মেলন ছিল তিন দিনব্যাপী। সম্মেলনের প্রধান প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো হলো- ভূমি ব্যবস্থাপনা; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম জোরদার করা; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম; স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন; সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্ন্যান্স; শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণ; স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ; পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ; ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়।

    সম্মেলন চলাকালে কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নির্দেশনা গ্রহণ ও মতবিনিময় করবেন বলে জানান তিনি।

    অতিরিক্ত সচিব বলেন, এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথে কার্য-অধিবেশন রয়েছে।

    তিনি জানান, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মোট ৩৪টি অধিবেশন ও কার্য-অধিবেশন হবে। এর মধ্যে কার্য-অধিবেশন ৩০টি; উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সদয় নির্দেশনা গ্রহণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা ৩টি এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে মুক্ত আলোচনা ও বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা ১টি।

    অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব প্রস্তাবে জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ হ্রাস করা, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইন-কানুন বা বিধিমালা সংশোধন এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

    তিনি জানান, ৩ মে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নির্দেশনা গ্রহণ, ৪ মে জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নির্দেশনা গ্রহণ এবং ৫ মে সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নির্দেশনা গ্রহণের সূচি রয়েছে।

    সম্মেলনের প্রত্যাশিত ফলাফলের বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে জেলা প্রশাসকরা যে আইনগত, প্রশাসনিক, আর্থিক ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন এবং স্ব স্ব জেলায় বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করেন—এসব বিষয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, সিনিয়র সচিব ও সচিবদের উপস্থিতিতে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পন্থা নির্ধারণ এবং সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর কৌশল প্রণয়ন করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, এছাড়া মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলোর অনুসৃত নীতি-কৌশল, গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসকরা সম্যক ধারণা লাভ করবেন। একই সঙ্গে পর্যটন খাতের বিকাশ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিসর বৃদ্ধি, সরকারের নীতি ও কর্মসূচির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিতকরণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

    সম্মেলন শেষ হবে আগামী ৬ মে বুধবার।

  • Hello world!

    Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!