Blog

  • উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

    উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

    দেশের তরুণ উদ্যোক্তা ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর জন্য সরকার সবসময় পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন কিছু করার পথ সহজ নয়, তবে সরকার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করবে। যাতে তারা নিজেদের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট হলে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা এখানে নতুন উদ্যোক্তা বা সম্ভাব্য উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন, যারা কিছু করতে চাচ্ছেন আপনাদের শুধু একটা কথা বলি—আপনারা যেটা করতে চাইছেন, এটা খুব সহজ কাজ নয়, খুবই কঠিন। কিন্তু আপনি পারবেন যদি আপনার ইচ্ছা থাকে।

    তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের অবস্থান থেকে আমি বলতে পারি, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে, আপনাদের হেল্প করার জন্য, পথ দেখানোর জন্য। আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারবো আমি জানি না, কিন্তু আমরা আছি, যতটুকু পারবো সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

    তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, দেশের লাখো-কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উদ্ভাবন, উদ্যোগ ও সৃজনশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, আপনারা আজকে যারা উদ্যোক্তা হবেন, যারা হতে চাইছেন, যারা হয়ে গিয়েছেন এবং এগিয়ে গিয়ে যারা মানুষ, সমাজ ও সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন, আপনাদের প্রয়োজন। নিজের জন্য আপনাদের প্রয়োজন না, আপনাদের প্রয়োজন লাখো-কোটি মানুষের জন্য, আপনাদের প্রয়োজন এই দেশের জন্য।

    বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের জীবনের সংগ্রামের কথাও তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অপমান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাকে এগিয়ে আসতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তরুণদের কঠিন সময়েও হাল না ছাড়ার আহ্বান জানান।

    দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন উদ্ভাবনী আয়োজন, স্কুলশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের কাজ দেখে তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী প্রজন্ম বাংলাদেশের নেতৃত্ব নিয়ে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  • ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

    ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

    দেশের নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ২০২৯–৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির অধীনে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই দেশব্যাপী ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণে দেশজুড়ে একটি সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করে আধুনিক ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের পক্ষে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল সংসদকে এ তথ্য জানান।

    সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারী-প্রধান পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই সারাদেশে সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে, যার মাধ্যমে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই শুমারির ওপর ভিত্তি করে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে আধুনিক ডাটাবেজের আওতায় এনে আগামী ৪ বছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের জরিপ এবং প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের মাধ্যমে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে।

    তিনি আরও জানান, সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন কার্ড দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

    ঢাকা-১৮ আসনের ফ্যামিলি কার্ডের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ী বস্তি এলাকার কিছু অংশে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে উত্তরা ও এর সংলগ্ন এলাকায় পরিবার শুমারি শেষ করে চলতি অর্থবছরেই ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। শুমারি সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দপ্তরে সরবরাহ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ছিল এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’। ইশতেহারে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি একক ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে সব ধরনের সরকারি ভাতা, খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা সমন্বিতভাবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর প্রথমে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প চালু করা হলেও এখন ধাপে ধাপে উপকারভোগী নির্বাচন, কেন্দ্রীয় এমআইএস ডাটাবেজ তৈরি এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

    সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯–৩০ অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালনা করা হবে।

  • দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির আভাস

    দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির আভাস

    দেশে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিনই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে আগামী ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ চার বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও প্রথম দু-দিন সারাদেশে তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির- এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।

    মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টয় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    এছাড়া আগামী পাঁচদিন পরও দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

  • জুনে সড়কে নিহত ৪৬৩, বিশেষজ্ঞদের হাতে সড়কের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি

    জুনে সড়কে নিহত ৪৬৩, বিশেষজ্ঞদের হাতে সড়কের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি

    দেশে গত জুন মাসে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত এবং এক হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও আটজন আহত এবং নৌপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৯০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫১৩ জনের, আহত হয়েছেন এক হাজার ৩৩৬ জন।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

    সংগঠনের দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরে। সংগঠনটির দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এর চেয়ে আরও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় নিহতের হার ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং আহতের হার ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৬ জনের এবং আহত হয়েছেন ৩৫ জন।

    সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, একজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুলিশ সদস্য, একজন সেনাবাহিনীর সদস্য, একজন প্রকৌশলী, ১১১ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক এবং নয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ সময়ে দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৯৫টি যানবাহনের মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ নছিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস ছিল।

    দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা গাড়িচাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণে, ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বিভিন্ন কারণে, শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ ট্রেন ও যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

    অন্যদিকে, মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে, ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব, মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া ও বিরামহীন গাড়ি চালানো, বৃষ্টিতে সড়কে গর্ত সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য বাস ও ট্রাকের ছাদে যাত্রী পরিবহনকে দায়ী করা হয়েছে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১১ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা, উন্নত বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা, উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া, জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, ফিটনেস সনদ দেওয়ার পদ্ধতির আধুনিকায়ন, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক ট্রেনিং অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পরিবহন খাতে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।

    প্রতিবেদনে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর সড়কে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি রোধে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে আমলাদের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং সড়ক নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ই-প্রসিকিউশন চালু এবং যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি।

  • ৬ দফা দাবিতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    ৬ দফা দাবিতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দ্রুত ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    আন্দোলনরত অমৃত লাল কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আতিক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কিছু বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তাই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

    একই কথা জানান আলেকান্দা কলেজের শিক্ষার্থী এহসানুল ইসলাম নাবিদ ও তৌফিকুল হক তামিম।

    এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

  • দেশ ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশ ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মিলে যুদ্ধ করে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। মাত্র কয়েকদিন আগেই আমরা স্বৈরাচারকে এ দেশ থেকে বিদায় করেছি। সব শ্রেণি-পেশার, ধর্ম-বর্ণের মানুষ রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে হটিয়েছে। এভাবে সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজ করি, তাহলে সবাই উপকৃত হবো।

    তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, এই বৃক্ষরোপণ দিবসে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই, যে যার অবস্থান থেকে পরিবেশকে সুন্দর ও সুরক্ষিত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

    সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সোয়া ২টায় বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন-সংলগ্ন সাগরদী খালের দুই পাশে একযোগে সাড়ে তিনশ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

     

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের পরিবেশ নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে। নিজেদের ঘর যদি নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তাহলে ঘর যেমন অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়, ঠিক তেমনি আমরা যদি আমাদের এলাকা, পাড়া ও দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখি এবং পরিবেশের দিকে খেয়াল না রাখি, তাহলে এর ভুক্তভোগী হবো আমরাই। অন্য দেশের সুন্দর পরিবেশ দেখে আফসোস করব, অথচ নিজেদের দেশকে নষ্ট করে ফেলব—এটা হতে পারে না।

    তিনি বলেন, গাছের চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যারা চারা রোপণ করেছেন, তারা সবাই মিলে গাছগুলোর যত্ন নেবেন। গাছগুলো বড় হলে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নয়, এখানে আগত সবাই উপকৃত হবেন।

     

    সাগরদী খাল রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রবহমান খালের যত্ন নেওয়া শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। খালের দুই পাশের বাসিন্দাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। খালের মধ্যে পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল বা অন্য কোনো বর্জ্য ফেলবেন না এবং অন্যদেরও তা করতে নিরুৎসাহিত করবেন। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ডাস্টবিনে বোতল, টিস্যুসহ সব ধরনের বর্জ্য ফেলতে হবে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকেও ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।

     

    এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক হয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বরিশাল সফর। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।

    গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে তিনি বরিশাল নগরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে সড়কের দুই পাশে হাজারো মানুষের মানবপ্রাচীরের মধ্য দিয়ে তার গাড়িবহর বেলা ২টার দিকে নগরের বান্দরোড এলাকায় পৌঁছায়।

  • শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, নিজেই তুললেন সেলফি

    শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, নিজেই তুললেন সেলফি

    গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শেষে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে স্কুলশিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়িবহর থামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তিনি নিজেই তাদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। পরে তাদের হাতে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন।

    সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের সাতমাইল এলাকায় বরিশাল ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাস-সংলগ্ন শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সড়কের পাশে অবস্থান নেন। তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর থামান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং স্মরণীয় মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন।

    শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিদ্যালয়ের সামনে গাড়িবহর থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তিনি তাদের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন এবং ক্রীড়া সামগ্রী উপহার দিয়েছেন। এটি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় একটি মুহূর্ত।

    প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের চার মাস পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো আজ সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশাল সফর করেন তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী সকালে সড়কপথে বরিশালে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে একযোগে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে জিআই স্বীকৃত বরিশালের আমড়া গাছ ও নারিকেল গাছের চারা নিজ হাতে রোপণ করেন।

  • এক বছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

    এক বছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি পরিবারের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

    সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা যে বাজেট পেয়েছিলাম, সেটি ছিল আগের সরকারের বাজেট। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিল না। তবে কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে যে নতুন বাজেট উপস্থাপন করেছি, সেখানে এ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমরা প্রথমে গ্রামের খেটে খাওয়া, অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার এই সুবিধা পাবে। এরপর ধাপে ধাপে আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। সে হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে প্রায় সাত হাজার পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে।

    ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। বিএনপি বিশ্বাস করে, নারীদের শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না, অর্থনৈতিকভাবেও সক্ষম করে তুলতে হবে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার মেয়েদের প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছিল। এবার আমরা নারীদের জন্য অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা নিয়েছি। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য বৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন বিএনপি সরকারের প্রয়োজন। জনগণ পাশে থাকলে ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। সকল সময় আমি একটি কথা বলি, বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। এই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ বিএনপির কাছে থাকবে, যতক্ষণ বিএনপির পাশে জনগণ থাকবে বিএনপি কোনো বাধা মানবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

    উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে এবং সারা বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে, ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, দেশকে পুনর্গঠন করার সমর্থন ব্যক্ত করে আমার বক্তব্য আমি শেষ করছি। ইনশাল্লাহ আবারও আসব আপনাদের এলাকায়। আবারও আপনাদের সঙ্গে কথা হবে।

    রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের চার মাস পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজই প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে এসেছেন তারেক রহমান। সফরকে ঘিরে বরিশালজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফরের শুরুতে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একযোগে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

    পরে বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনি জিআই স্বীকৃত বরিশালের আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা রোপণ করবেন। পাশাপাশি খালপাড়জুড়ে শতাধিক ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ রোপণ করা হবে।

    বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

  • ‘গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, শিশুর মতো যত্ন নিতে হবে’-প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    ‘গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, শিশুর মতো যত্ন নিতে হবে’-প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমরা কিন্তু বলেছিলাম সারাদেশে অনেকগুলো কাজের মধ্যে মূল দুটো কাজ করতে চাই। একটা হচ্ছে- খাল খনন যেটা শহীদ জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। আরেকটি হচ্ছে- বৃক্ষরোপণ, এটাও শহীদ জিয়া শুরু করেছিলেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও সেই কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরাও এই কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাব।

    সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিনের সফরে বরিশাল পৌঁছেছেন। বরিশালে পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টায় গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নবখননকৃত সরিকল-বাটাজোর খালের পাড়ে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আসার সময় দেখলাম অনেকে গাছের চারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। খেয়াল করলাম অনেকে পলিথিনসহ গাছের চারা রোপণ করে দিয়েছেন। যারা এই কাজ করেছেন তারা দয়া করে পলিথিনে মোড়ানো গাছের চারার পলিথিনটা খুলে মাটিসহ গাছটা মাটিতে রোপণ করুন। তা না হলে তো গাছটা নষ্ট হয়ে যাবে। সেজন্য আমাদের যত্ন সহকারে এই কাজটি করতে হবে।

    এসময় দেশের জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই যে চট্টগ্রামে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এখন আবহাওয়ার বিষয়টা এমন কেন হচ্ছে? সারা পৃথিবীতেই আবহাওয়ার সমস্যা হচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশে বেশি হচ্ছে। আগে আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন শীতকালে যতটা শীত পড়তো এখন কিন্তু আগের মতো ততটা শীত পড়ে না। আবার গরমের সময় অনেক বেশি গরম পড়ে। এই সমস্যাগুলো যদি আমাদের সমাধান করতে হয় বা এই সমস্যাটা যদি কমিয়ে আনতে চাই তাহলে সারাদেশে অনেক গাছ লাগাতে হবে। ২০ কোটি মানুষের এই দেশে যে পরিমাণ গাছ থাকা প্রয়োজন, বর্তমানে তা নেই।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়া যেই কর্মসূচিটি শুরু করেছিলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে, আমরা অনেকগুলো কর্মসূচির পাশাপাশি এটাও সারাদেশে চালু রাখতে চাই। ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করব। আজকে এখানে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে।

    এছাড়া গাছের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যারা চারা রোপণ করবেন তাদের দায়িত্ব কিন্তু রোপণ করেই শেষ হয়ে যায় না। একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হলেই কিন্তু বাবা-মায়ের কাজ শেষ হয়ে যায় না। বরং শিশুটাকে যত্ন সহকারে মানুষ করাই হচ্ছে আসল কাজ। আজকের এই চারাগুলো কিন্তু শিশু গাছ, একে শিশুর মতো বড় করতে হবে। এসময় তিনি আশেপাশে বসবাসকারী ও দোকানদারদের অনুরোধ জানান যেন গাছগুলো বড় না হওয়া পর্যন্ত সবাই সেগুলোর যত্ন নেন।

     

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই গাছটি যদি বড় হয় আপনি বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবেন, শান্তির ছায়ায় বসতে পারবেন। গ্রীষ্মকালে এই গাছের শীতল বাতাসের স্পর্শ পাবেন। সন্তান যত বড় হয় আপনার বুকটা ভরে উঠে আনন্দে, ঠিক এই গাছটি যখন বড় হবে দেখবেন একই রকম আপনি আনন্দ পাবেন। আসুন, আমরা যদি আমাদের এলাকাটা সুন্দর করতে চাই, দেশটা সুন্দর করতে চাই তাহলে বৃক্ষরোপণ করি সেই সঙ্গে গাছের যত্ন নেই।

    বক্তব্যের শেষে তিনি সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে উপস্থিত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চারা রোপণ করেন এবং ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেন।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পর আজ প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে বরিশাল আসেন তারেক রহমান। তার সফরকে ঘিরে বরিশালজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসন ও বিএনপির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

    সফরসূচি অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পর তিনি ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি জিআই স্বীকৃত বরিশালের আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা নিজ হাতে রোপণ করেন। এছাড়া খালপাড়জুড়ে শতাধিক দেশীয় ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ রোপণের কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।

    বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতা, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলীয় শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

  • বরিশালবাসীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ ব্যানার-ফেস্টুন নয়, প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনায় ৪০ কি.মি. ‘মানবপ্রাচীর’

    বরিশালবাসীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ ব্যানার-ফেস্টুন নয়, প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনায় ৪০ কি.মি. ‘মানবপ্রাচীর’

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে গেছেন তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি গৌরনদীতে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি গৌরনদী ও বরিশাল সদরে দিনভর নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

    নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো প্রকার তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সাদামাটা আয়োজনের মধ্যেও বরিশালবাসী ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। গৌরনদী থেকে বরিশাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানিয়েছেন বরিশাল বিএনপিসহ স্থানীয়রা।

    এর আগে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম বরিশাল সফর। তাই নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কোনো আয়োজন করা হয়নি। সড়কের দুই পাশে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বরিশাল সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে বরিশালের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে।

    প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে বরিশালে পৌঁছে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি।

    সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছান তিনি। বরিশালে এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম সফর।

    সফরসূচি অনুযায়ী সকালে সড়কপথে বরিশালে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে একযোগে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন, যা শেষ মুহূর্তে সফরসূচিতে যুক্ত হয়েছে।