Blog

  • বাগদান গুঞ্জনের মাঝে নতুন ছবি প্রকাশ পূজা চেরির

    বাগদান গুঞ্জনের মাঝে নতুন ছবি প্রকাশ পূজা চেরির

    ব্যক্তিজীবন নিয়ে আবারও আলোচনায় ঢাকাই চিত্রনায়িকা পূজা চেরি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে তার বাগদানের গুঞ্জন যখন শোবিজ পাড়ায় তুঙ্গে, ঠিক তখনই সামাজিক মাধ্যমে নিজের একগুচ্ছ নতুন ছবি প্রকাশ করলেন এই অভিনেত্রী। 

    সম্প্রতি ফেসবুক পেজে সেই ছবিগুলো শেয়ার করেছেন পূজা। ছবিতে তাকে সাদা রঙের ওপর সবুজ ও নীল প্রিন্টের একটি স্যালোয়ার কামিজে দেখা গেছে।

    প্রকৃতির মাঝে খোলা চুলে তার মিষ্টি হাসি ভক্তদের নজর কেড়েছে। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘বিকামিং আ বেটার ভার্সন অব মাইসেলফ, ওয়ান স্মাইল অ্যাট আ টাইম’—অর্থাৎ প্রতিটি হাসির মধ্য দিয়ে নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করছেন তিনি।

    পোস্ট করার মাত্র কয়েক মিনিটেই হাজার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়েছে। মন্তব্য ঘরেও ভক্তরা ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছি অভিনেত্রীকে।

    তবে এসব ছবির বাইরে পূজাকে নিয়ে এখন শোবিজ পাড়ায় সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে তার বাগদানের গুঞ্জন নিয়ে। গুঞ্জন উঠেছে, অনেকদিন হদরেই বাগদান সেরেছেন নায়িকা। সদ্য সামাজিক মাধ্যমে একটি রহস্যময় স্টোরি এই গুঞ্জনের পালে হাওয়া দেয়। জীবনের নতুন অধ্যায়ে কার সঙ্গে পা রাখতে চলেছেন পূজা, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল বাড়ছে সমানতালে।

    এ প্রসঙ্গে পূজা চেরিকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলে কোনো সাড়া মেলেনি। তবে বাগদান নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও এর আগে একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে পূজা জানিয়েছিলেন, তিনি বিবাহিত না হলেও পারিবারিকভাবেই তার বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল।

    তবে নায়িকা এও স্পষ্ট করেছিলেন, বিয়ে করলে কখনও লুকিয়ে করবেন না, বরং সবাইকে জানিয়েই নতুন জীবনের অধ্যায় শুরু করবেন।

  • মার্কিন হামলায় ইরানের ১০ হাজার মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ

    মার্কিন হামলায় ইরানের ১০ হাজার মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ

    ইরানে টানা সাত দিন ধরে হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এ হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের একটি পানি শোধনাগারেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির সিইও হামজেহ পুর বলেন, ইরানের জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে একটি পানি পরিশোধন পাম্পে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার জনসংখ্যার ২০টি গ্রামে সুপেয় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    পুর এই মার্কিন হামলাকে ‘ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলার ফলে সমুদ্র থেকে পানি তোলার একটি পাম্পিং স্টেশন এবং বুঞ্জি পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, এসব গ্রামের বাসিন্দারা তীব্র পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।

    এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি অংশে আগুন লেগেছে।

    মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এর ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এজন্য কেন্দ্র ও এর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে সঙ্গেই সব কার্যক্রম ও জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও পানি উভয় নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিষেবার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত ও কার্যক্রমগত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

    এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানে টানা ৭ রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে সেন্টকম। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) নির্দেশনা মেনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ‘ইরান পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।

    শুক্রবার রাতের হামলার পর তাৎক্ষণিক এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা অব্যাহত রাখে, সেক্ষেত্রে ইরান নিজেকে শুধু পাল্টা হামলার মধ্যেই সীমিত রাখবে না; পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামবে এবং সেক্ষেত্রে (মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের) কোনো রাজনৈতিক সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে না।

    সূত্র:  আল জাজিরা

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো

    সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, আজকে বরিশালে জড়ো হয়েছি। সর্বশেষ আমাদের ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তারপর প্রত্যেকটি জেলা-উপজেলায় আমাদের এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। এর মধ্যে সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে আমরা বাধ্য হবো।

    শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে বরিশালে বিভাগীয় এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এখানো কোনো কঠোর কর্মসূচি দেই নাই। আমরা হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেই নাই। কিন্তু যেকোনো সময় সেই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার  এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ সেই পরিস্থিতি দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন,  প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। কারণ আমরা দেখলাম যেই  গণভোটের পক্ষে, যেই জুলাই সনদের পক্ষে তিনি হ্যাঁ-এর প্রচারণা করলেন, নির্বাচনের ফলাফলের পরে ৭০ পার্সেন্ট মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অন্যদিকে মুখে বলে যাচ্ছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। গণঅভুত্থানের সময় আমাদের একটা স্লোগান ছিল- নাটক কম করো প্রিয়। তারেক রহমানকে বলে দিচ্ছি- তারেক রহমান নাটক কম করেন প্রিয়। বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয়- আপনি যা খুশি করবেন, যেরকম খুশি ছলনা প্রতারণা এদেশের জনগণের সাথে করবেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি গত ১৬  বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না। তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য। তারা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের সাথে কাঁধ মিলিয়েছিল ক্ষমতার জন্য, নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা তাদের কুক্ষিগত হয়েছে। এখন তারা পরিবর্তনের কথা বলে না। এখন তারা সংস্কারের কথা বলে না। এখন তারা ৩১ দফার কথা বলে না। এখন তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা বলে না। বরং এখন তারা বলছে তারা নাকি কোনোদিনই সংবিধান সংস্কারের কথা বলে নাই। অথচ তাদের ৩১ দফার প্রথম দফাটি হচ্ছে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে।

     

    তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে যেই প্রহসন এই জাতির সাথে করা হচ্ছে, শেখ হাসিনা এই ধরনের প্রহসন করে আজকে তার পরিণীতি হয়েছে সে দিল্লিতে আছে। বিএনপি সরকারকে আমরা বলে দিতে চাই সংবিধান সংশোধনের নামে এই প্রহসন বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। সংবিধান সংস্কার করতে হবে। যদি আপনারা সংস্কারেও রাজি না হন আমরা নতুন সংবিধানের দাবি উঠাবো। আমরা নতুন গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি উঠাবো। ভুলে গেলে চলবে না ঐকমত্য কমিশনের আপনারা ঐকমত্য হয়েছিলেন গণভোটের পক্ষে, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জানি বরিশালে কর্মসংস্থান নাই। বরিশালের মানুষ ঢাকায় গিয়ে অনেক কষ্ট করে জীবন যাপন করে। বিএনপি সরকার তাদের ইশতেহারে বলেছিল ১৮ মাসে তারা এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। পাঁচ মাস হয়ে গিয়েছে। কয়টি কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। কয়টি চাকরি নিশ্চিত হয়েছে? চাঁদাবাজি নিশ্চিত হয়েছে কিনা? কার্ড হয়েছে কিনা ছাত্রদলের-যুবদলের? কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে সাধারণ জনগণের নয়, চাঁদাবাজদের, ছাত্রদল-যুবদলের, শ্রমিক দলের কিশোর দলের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের কোনো  কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয় নাই।

    বিভাগীয় এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু প্রমুখ।

  • বাণিজ্য-বিনিয়োগ-প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী চীন

    বাণিজ্য-বিনিয়োগ-প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী চীন

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মন্ত্রী।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের পদ্মা হলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে তা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হয়েছে। স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চীন সফর এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর বিস্তৃতি ঘটেছে।

    বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি দেশে এনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন।

    তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে চীনের অভূতপূর্ব অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা। চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

    স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বিরোধী দলে থাকাকালেও বিএনপি চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভারত, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। তিনি বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণ, চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ সড়ক যোগাযোগ এবং রোহিঙ্গা সংকটের সশান্তিপূর্ণ সমাধানে চীনের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চীন আগ্রহী। তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানেও চীনের সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

    বাংলাদেশে-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েটের সভাপতি নাজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

  • গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান

    গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই রায় উপেক্ষা করে প্রতারণার আশ্রয় নিলে তার পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার গণভোটের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু, রেললাইন, গ্যাস সংযোগ ও উন্নত সড়কব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বরিশালকে বঞ্চিত রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়। যেখানে বৈষম্য থাকবে, সেখানে প্রতিবাদ চলবে।

    তিনি আরও বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় আগামী ২৫ জুলাই সিলেটের সমাবেশের পর আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি বলেন, দেশে এখনো চাঁদাবাজি ও নিয়োগ–বাণিজ্য বন্ধ হয়নি। বরিশালের উন্নয়নে ভোলা-বরিশাল সেতু, ছয় লেন সড়ক ও গ্যাস সংযোগের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার গণভোট ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের পরিবর্তে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

    এ ছাড়া এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এনসিপি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

    সমাবেশ পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ও ফখরুদ্দিন খান রাজী।

    এর আগে সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুরের আগেই কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠ এবং আশপাশের সড়ক জনসমাগমে পূর্ণ হয়ে যায়।

  • গণভোট ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে-বরিশালে জামায়াতের আমির

    গণভোট ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে-বরিশালে জামায়াতের আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে গণভোটে ৭০ ভাগ জনগণ রায় দিয়েছে, সেই একই দিনের ভোটে আপনারা সরকার বলে এখন দাবি করছেন। ওই গণভোট না থাকলে এই সরকারও মানা হবে না। ওই গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। ওই গণভোট মানতে জনগণ আপনাদের বাধ্য করবে ইনশাআল্লাহ। 

    শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে বরিশালে বিভাগীয় এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

    বিএনপিকে উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেনআপনারা ৯১ সালের পরে ক্ষমতায় এসে বোঝেন নাই কাকে কেয়ারটেকার সরকার বলে। শেষ পর্যন্ত বুঝেছেন ঠিকই। আমরা বলবো জাতির ক্ষতি করে বুঝবেন না, এখনই বুঝুন। আমরা রাজপথে এভাবে থাকতে চাই না। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আপনারা যেভাবে ধাক্কায়ে ধাক্কায়ে আমাদেরকে রাজপথের দিকে দিচ্ছেন, রাজপথ জ্বলে উঠলে সেই আগুনে অনেক কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, গণভোটে এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। হ্যাঁ বলার মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছে অতীতের পচা রাজনীতি এবং শাসনব্যবস্থা আমরা আর চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই। নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আফসোস, সরকারি দল তারা বলেছিল অধিকাংশ জনগণ যদি গণভোটে হ্যাঁ- এর পক্ষে রায় দেয় তাহলে আমরা গণভোটের প্রত্যেকটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। আমরাও বলেছি, তারাও বলেছেন গণভোটে হ্যাঁ বলুন, আমরাও বলেছি গণভোটে হ্যাঁ বলুন। কিন্তু হ্যাঁ যখন বিজয়ী হলো। যেভাবেই হোক মেকানিজম করে তারা যখন ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন হ্যাঁ-টা তারা ভুলে গেলেন। এখন তারা বলতেছেন- আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলি নাই। না না বন্ধুরা আপনারা সত্য বলছেন না, আপনারা মিথ্যা বলছেন। কারণ আপনাদের ৩১ দফা সংস্কারের দাবির প্রথম দফাই হচ্ছে সংস্কার। এখন বলেন যে সংস্কার কী জিনিস বুঝি না। আসেন আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটি করি।

    জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সংসদের ভেতরে আপনারা দেখবেন মাঝে মাঝে একজন অবৈতনিক শিক্ষক, তিনি আমাদেরকে সবক দেন। এইটা সংবিধান, ওইটা সংবিধান, এইটা ধারা, ওইটা ধারা। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই- সংবিধান  এবং কার্যপ্রণালী বিধির কোথায় আছে সংসদে আপনি একটা সংবিধান সংশোধন কমিটি করতে পারবেন মেহেরবানি করে তা দেখিয়ে দেন। আমরা যখন তার প্রতিবাদ করেছি, এখন শুনলাম সংসদের ভেতরেই তারা আওয়াজ দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করলেন। আমরা এটাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। এখন নাকি তারা এটার নাম পাল্টাইয়া নতুনভাবে তারা আকিকা করতেছেন নতুন নামে। তারা এখন বলতেছেন বিশেষ কমিটি। জনগণের সাথে আর কত ছলচাতুরি করবেন, আর কত ধোঁকাবাজি করবেন। পদে পদে মিথ্যা বলবেন, ধোঁকা দেবেন পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন।

    শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে ২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৯টি বছর এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মামলা মাথায় নিয়ে জেলে গিয়েছে। সন্তান হারিয়েছে, স্বামী হারিয়েছে, এমনকি স্ত্রীও হারিয়েছে, কিন্তু মানুষ ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করে নাই। সেই ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে তুড়ি মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা হাজার চেষ্টা করলে ওই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না। আপনারা ডামি ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন। আসল ফ্যাসিবাদকেই জনগণ পাত্তা দেয় নাই। ডামি ফ্যাসিবাদ আবার কিসের? ফ্যাসিবাদ যে পথে হেঁটেছে আপনারা সেই পথে হাঁটছেন। খাসলতের একটারও পরিবর্তন আনেন নাই।

    তিনি বলেন, ১৩৩টা অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছিল। যেই অর্ডিন্যান্সগুলা ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল তার সবগুলো বিএনপি রেখে দিয়েছে। এটা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। তারা বলে সুন্দর করে আমরা আরো ভালো করে এগুলা নিয়ে আসব। এ পর্যন্ত ছয় মাস চলে যাচ্ছে কই ভালো করে তো এটা আনতে পারলেন না। আমরা বুঝতে পারছি জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য আরেকটা অপকৌশলের আশ্রয় তারা নিতে পারেন। তাদের মনমতো একতরফা ওই অবৈধ কমিটিতে আলাপ-আলোচনা করে। সংবিধান সংশোধন কমিটি বলে কোনো কমিটি নাই। এটা অবৈধ যদি গঠন করা হয়ে থাকে। ওখানে আলাপ-আলোচনা করে তাদের মনমতো কিছু জিনিস স্বৈরশাসনকে পোকাপোক্ত করার জন্য তারা হয়তো নিয়ে আসবে। দুই তৃতীয়াংশের জোরে হয়তো পাসও করবে। তারপরে বলবে আগে তো সংবিধানে গণভোট ছিল না। এখন পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে এটা ফিরে এসেছে। আমরা এখন এই বিষয়গুলোই গণভোটে দেবো। এ রকম কোনো ভাওতাবাজি যদি করা হয়, অগ্রিম বলে রাখছি- এই জাতি আপনাদেরকে ছেড়ে কথা বলবে না। সাবধান ধোঁকার পথে পা বাড়াবেন না।

    শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের একটা চমৎকার স্লোগান ছিল আমাদের সন্তানদের। লেগেছে রে লেগেছে। রক্তে আগুন লেগেছে। রক্তে আগুন ধরাবেন না। এই প্রজন্মের আর পরীক্ষা নেবেন না। এরা পরীক্ষিত। এরা বিজয়ী, এরা বীর।

    জামায়াত আমির বলেন, জুলাইকেও ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কত কসরত। এইটা ওইটা, ৭১ সাল- অবশ্যই এটি আমাদের গর্বের। এটি আমাদের ইতিহাসের সোনালী অংশ। ২৪ টানতে গিয়ে ৭১ টানতে হবে কেন। ৭১ থাকবে ৭১ এর মর্যাদায়, ২৪ থাকবে তার মর্যাদায়। এই ২৪ আমরা হারিয়ে যেতে দেব না ইনশাআল্লাহ। ২৪ এর বীরদেরকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করতে হবে সে শহীদ হোক আর গাজী হোক, ২৪  নিয়ে কোনো অবহেলায় জাতি বরদাসত করবে না।

    বিভাগীয় এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু প্রমুখ।

  • আগামী মাসে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

    আগামী মাসে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

    আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কার্ডে থাকবে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা। এই কার্ড প্রদানে সরকারের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া।

    নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। তারই অংশ হিসেবে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

     

    উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হচ্ছে— দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট এন্ড গ্রিট সেবা, বিমানের টিকেট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূলে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট পিক এন্ড ড্রপ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া।

    এছাড়া, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেন। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কুনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার, ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধা দেওয়া।

    শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, প্রবাসী কার্ড পরীক্ষামূলভাবে উদ্বোধন হবে আগামী মাসের মাঝামাঝিতে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

    দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছে, তারা যাতে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসে সেজন্যও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে বলেছেন বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন– বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

    উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

    দেশের তরুণ উদ্যোক্তা ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর জন্য সরকার সবসময় পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন কিছু করার পথ সহজ নয়, তবে সরকার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করবে। যাতে তারা নিজেদের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট হলে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা এখানে নতুন উদ্যোক্তা বা সম্ভাব্য উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন, যারা কিছু করতে চাচ্ছেন আপনাদের শুধু একটা কথা বলি—আপনারা যেটা করতে চাইছেন, এটা খুব সহজ কাজ নয়, খুবই কঠিন। কিন্তু আপনি পারবেন যদি আপনার ইচ্ছা থাকে।

    তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের অবস্থান থেকে আমি বলতে পারি, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে, আপনাদের হেল্প করার জন্য, পথ দেখানোর জন্য। আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারবো আমি জানি না, কিন্তু আমরা আছি, যতটুকু পারবো সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

    তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, দেশের লাখো-কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উদ্ভাবন, উদ্যোগ ও সৃজনশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, আপনারা আজকে যারা উদ্যোক্তা হবেন, যারা হতে চাইছেন, যারা হয়ে গিয়েছেন এবং এগিয়ে গিয়ে যারা মানুষ, সমাজ ও সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন, আপনাদের প্রয়োজন। নিজের জন্য আপনাদের প্রয়োজন না, আপনাদের প্রয়োজন লাখো-কোটি মানুষের জন্য, আপনাদের প্রয়োজন এই দেশের জন্য।

    বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের জীবনের সংগ্রামের কথাও তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অপমান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাকে এগিয়ে আসতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তরুণদের কঠিন সময়েও হাল না ছাড়ার আহ্বান জানান।

    দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন উদ্ভাবনী আয়োজন, স্কুলশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের কাজ দেখে তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী প্রজন্ম বাংলাদেশের নেতৃত্ব নিয়ে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  • ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

    ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

    দেশের নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ২০২৯–৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির অধীনে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই দেশব্যাপী ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণে দেশজুড়ে একটি সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করে আধুনিক ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের পক্ষে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল সংসদকে এ তথ্য জানান।

    সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারী-প্রধান পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই সারাদেশে সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে, যার মাধ্যমে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই শুমারির ওপর ভিত্তি করে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে আধুনিক ডাটাবেজের আওতায় এনে আগামী ৪ বছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের জরিপ এবং প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের মাধ্যমে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে।

    তিনি আরও জানান, সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন কার্ড দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

    ঢাকা-১৮ আসনের ফ্যামিলি কার্ডের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ী বস্তি এলাকার কিছু অংশে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে উত্তরা ও এর সংলগ্ন এলাকায় পরিবার শুমারি শেষ করে চলতি অর্থবছরেই ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। শুমারি সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দপ্তরে সরবরাহ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ছিল এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’। ইশতেহারে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি একক ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে সব ধরনের সরকারি ভাতা, খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা সমন্বিতভাবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর প্রথমে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প চালু করা হলেও এখন ধাপে ধাপে উপকারভোগী নির্বাচন, কেন্দ্রীয় এমআইএস ডাটাবেজ তৈরি এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

    সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯–৩০ অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালনা করা হবে।

  • দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির আভাস

    দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির আভাস

    দেশে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিনই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে আগামী ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ চার বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও প্রথম দু-দিন সারাদেশে তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির- এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।

    মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টয় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    এছাড়া আগামী পাঁচদিন পরও দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।