Blog

  • ডিএলএসের ছোঁয়ায় শেষ হাসি ম্লান

    ডিএলএসের ছোঁয়ায় শেষ হাসি ম্লান

    বৃষ্টি ম‌্যাচে প্রভাব রাখতে পারে তা আগে থেকেই ধারণা ছিল দুই দলের। তাইতো বিকল্প পরিকল্পনা ছিল দুই দলেরই। কিন্তু বাংলাদেশ যেভাবে খেলল তাতে মনেই হলো না ম‌্যাচটায় বাংলাদেশ টিকে আছে। বৃষ্টি স্রেফ এলোমেলো করে দিল স্বাগতিকদের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন।

     

    গুমোট আবহওয়ায় টস জয় মানেই অনেকটা এগিয়ে যাওয়া। ভাগ্য এদিন নিউ জিল‌্যান্ডের পক্ষে। নিক কেলি টস জিতে বাংলাদেশকে ব‌্যাটিংয়ে পাঠালেন। ব‌্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা একেবারেই মন্দ বাংলাদেশের। ৩৫ রান তুলতে নেই ৩ উইকেট। এরপর বৃষ্টির বাগড়া। সেই বৃষ্টিতেই তছনছ সব। পরে বাংলাদেশ লড়াইয়ের চেষ্টা করেও পারেনি।

     

    ১৫ ওভারে নেমে আসা ম‌্যাচে বাংলাদেশ ১৪.২ ওভারে অলআউট মাত্র ১০২ রানে। শেষ ২৫ বলে মাত্র ১৬ রান তুলতে হারায় ৬ উইকেট।

    স্বল্প সেই পুঁজি নিয়ে পেসার শরিফুল ইসলাম আগুণ ঝরালেন। ২৫ রানে তুলে নিলেন ৩ উইকেট। এরপর অধিনায়ক নিক কেলিকে বোল্ড করলেন স্পিনার মাহেদী। শুরুর লড়াইয়ে বড় আশায় বুক বাঁধছিল বাংলাদেশ। স্টেডিয়ামের প্রায় ১৮ হাজার দর্শকও সেই একই আশাতে। কিন্তু বেভন জ‌্যাকবস পাঁচে নেমে লণ্ডভণ্ড করে দিলেন সব। ৩১ বলে ৬২ রান করলেন ৫ চার ও ৩ ছক্কায়। তাতে বাংলাদেশের হাত থেকে বেরিয়ে যায় সিরিজ নির্ধারণী ম‌্যাচ।

     

    ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে নিউ জিল‌্যান্ড ৬ উইকেটে ম‌্যাচ জিতে ১-১ সমতায় শেষ করলো টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ম‌্যাচসেরা হয়েছেন জ‌্যাকবস। আর ৮৪ রান নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।

    বৃষ্টির আগে-পরে ব‌্যাটিং ব‌্যর্থতায় বাংলাদেশ সিরিজ হারিয়েছে। ২ চারে ১৬ রান করে সাইফ আউট হন লেনক্সের বলে এগিয়ে এসে ছক্কা উড়াতে চেয়ে। তানজিদ ১০ বলে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। লিটন আশা দিয়েছিলেন বড় কিছু করে দেখাবেন। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করেন। কিন্তু বাংলাদেশের অধিনায়ককে থেমে যেতে হয় সেখানেই।

     

    এরপর বৃষ্টিতে বাংলাদেশের স্বপ্ন ধূলিষাৎ হয়ে যায়। তাওহীদের ৩৩ রান বাদে বাকিরা কেউ দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। উইকেটের মিছিলে পুরো ইনিংস ব্যাটিংও করতে পারেননি। তাতে অল্পরানেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের স্বপ্ন। নিউ জিল‌্যান্ডের হয়ে পেসার জস ক্লার্কসন ৯ রানে ৩ উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স।

    শরিফুল বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। নিজের প্রথম ওভারে পান জোড়া সাফল‌্য। উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান কেটেন ক্লার্ক (১) ও ডেন ক্লেভারকে (১)। পরের ওভারে ফিরে টম রবিনসনকে (২৩) বোল্ড করেন বাঁহাতি পেসার। মনে হচ্ছিল নিউ জিল্যান্ড তখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু ম‌্যাচটা যেহেতু বাংলাদেশের ছিল না তাই কেউ না কেউ লড়াই করবেই। নিউ জিল‌্যান্ডের ত্রাতা হয়ে আসলেন জ‌্যাকবস। প্রতি আক্রমণে গিয়ে ২২ গজকে রানের ফোয়ারা বানিয়ে ছাড়লেন। ৫ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসটি ছিল পয়সা উসুলের। তাকে সঙ্গ দিয়ে ডেন ফক্সক্রফট ১৫ বলে ১৫ রান করেন। ১১.৪ ওভারেই জয় ছিনিয়ে নেয় তারা।

     

    ওয়ানডে সিরিজ হারানোর পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করে সফরের শেষটা রাঙাল নিউ জিল‌্যান্ড। এ জয়ে নিশ্চিতভাবেই তাদের আত্মবিশ্বাসে জোয়ার পাবে। অন‌্যদিকে ভালো অবস্থানে থেকেও সিরিজ হারিয়ে নিশ্চিতভাবেই হতাশায় ডুবে থাকবে বাংলাদেশ।

  • পিএসএলে শিরোপার লড়াই আজ: জালমির অভিজ্ঞতা বনাম কিংসম্যানের স্বপ্ন

    পিএসএলে শিরোপার লড়াই আজ: জালমির অভিজ্ঞতা বনাম কিংসম্যানের স্বপ্ন

    লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আজ রবিবার রাতেই পর্দা নামছে এবারের পাকিস্তান সুপার লিগের জমজমাট আসরের। ৪৪ ম্যাচের দীর্ঘ লড়াই শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হায়দরাবাদ কিংসম্যান ও পেশোয়ার জালমি। একদিকে প্রথম আসরেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি, অন্যদিকে পুরনো গৌরব ফেরানোর লক্ষ্য।

     

    এই মৌসুমে লিগে আর্থিক কাঠামোতেও এসেছে পরিবর্তন। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ লাখ ডলার, রানার্সআপ ৩ লাখ ডলার। আর খেলোয়াড় তৈরিতে সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি পাবে ২ লাখ ডলার। খেলোয়াড়দের জন্য আলাদাভাবে রাখা হয়েছে ৫ লাখ ডলারের পুরস্কারভান্ডার। যা লিগের পেশাদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

     

     

    পেশোয়ার জালমি পুরো আসরজুড়ে ছিল সবচেয়ে স্থিতিশীল দলগুলোর একটি। অধিনায়ক বাবর আজম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে করেছেন ৫৮৮ রান। যা তাকে আসরের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বানিয়েছে। তার পাশে সমান তালে পারফর্ম করেছেন কুশল মেন্ডিস, যার সংগ্রহ ৫৪১ রান। বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন সুফিয়ান মোকিম। ২১ উইকেট নিয়ে তিনি জালমির বোলিং আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু।

     

    ১০ ম্যাচে ৮ জয়, তার মধ্যে টানা ৭ ম্যাচ জয়ের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা; এই ছন্দ নিয়েই ফাইনালে উঠেছে জালমি। কোয়ালিফায়ারে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৭০ রানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে তারা। উপরন্তু, গতিময় পেসার নাহিদ রানা দলে ফেরায় শক্তি আরও বেড়েছে। যিনি মাত্র ৪ ম্যাচেই ৭ উইকেট নিয়েছেন।

    অন্যদিকে, হায়দরাবাদ কিংসম্যানের গল্পটা যেন পুরোপুরি নাটকীয়। শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টানা ৩ হারের পর জালমির বিপক্ষে শেষ বলে হার। মোট ৪ ম্যাচে পরাজয়। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। টানা ৪ জয়ে ফিরে আসে প্রতিযোগিতায়। পরে শেষ লিগ ম্যাচে ১০৮ রানের বড় জয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে গিয়ে পেছনে ফেলে দেয় লাহোরকে।

     

    অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন দলের এই যাত্রাকে দেখছেন ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের ফল হিসেবে। তার ভাষায়, দলটি ওঠানামার মধ্য দিয়েই নিজেদের শক্তি খুঁজে পেয়েছে।

    নকআউটে এসে আরও চমক দেখায় কিংসম্যান। এলিমিনেটরে মুলতানকে হারিয়ে, পরে ইসলামাবাদের বিপক্ষে ২ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনাল। এই ধাক্কা সামলে ওঠার মানসিক শক্তিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

     

    অভিজ্ঞতা বনাম গতি- কার হাতে ট্রফি?
    একদিকে জালমির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে কিংসম্যানের লড়াকু মনোভাব ও গতি; সব মিলিয়ে ফাইনাল হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। দর্শকে ভরা স্টেডিয়ামে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হবে মহারণ।

    শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শেষ হাসি- অভিজ্ঞ জালমি, নাকি স্বপ্ন দেখা নবাগত কিংসম্যান; তার উত্তর মিলবে আজ রাতেই।

  • শিরোপা এখন হাতের মুঠোয় বার্সেলোনার

    শিরোপা এখন হাতের মুঠোয় বার্সেলোনার

    স্প্যানিশ লিগের শিরোপা লড়াই এখন কার্যত একপেশে। শনিবার রাতে বার্সেলোনা শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ওসাসুনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

     

    ম্যাচের বড় সময় জুড়েই গোলশূন্য ছিল লড়াই। তবে শেষ ১০ মিনিটে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ৮১ মিনিটে বদলি নামা মার্কাস রাশফোর্ড ডান দিক থেকে নিখুঁত ক্রস তুলে দেন। আর সেই বল হেডে জালে জড়িয়ে দেন রবার্ট লেভানডোভস্কি। গোলটি যেন জমে থাকা চাপ এক মুহূর্তেই ভেঙে দেয়।

     

     

    এরপর মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। যদিও ম্যাচের ৮৯ মিনিটে রাউল গার্সিয়া একটি গোল শোধ করেন। তবু তাতে ফল বদলায়নি। ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সা।

     

    এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ পয়েন্টে। হাতে আছে আর মাত্র ৪ ম্যাচ। অর্থাৎ, হিসাব এখন পরিষ্কার। রিয়াল যদি পরের ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে জয় না পায়, তাহলে এই সপ্তাহেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে বার্সেলোনার।

    আর যদি রিয়াল জয় পায়, তাহলে শিরোপা নির্ধারণ গড়াবে আরও এক সপ্তাহ। যেখানে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হবে এল ক্লাসিকোতে। সেই ম্যাচ হতে পারে মৌসুমের সবচেয়ে বড় নির্ধারণী লড়াই।

  • তিন মৌসুম পর বুন্দেসলিগায় ফিরল ৭ বারের জার্মান চ্যাম্পিয়নরা

    তিন মৌসুম পর বুন্দেসলিগায় ফিরল ৭ বারের জার্মান চ্যাম্পিয়নরা

    জার্মানির সর্বোচ্চ স্তরের ক্লাব প্রতিযোগিতা বুন্দেস লিগায় তিন মৌসুম খেলতে পারেনি শালকে। গতকাল (শনিবার) দ্বিতীয় স্তরের বুন্দেস লিগার শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করার মাধ্যমে তারা মূল প্রতিযোগিতায় ফিরেছে। শালকে এদিন ফরচুনা ডুসেলডর্ফকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। যদিও লিগে দলটির আরও তিন ম্যাচ বাকি, তবে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষেও শালকে টেবিলের দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করেছে। 

    ম্যাচের ১৩তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেছেন অধিনায়ক কেনান কারামান। এই জয়ে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা হ্যানোভারের চেয়ে শালকে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে গেল। যেখানে হ্যানোভারের হাতে এখনও তিনটি ম্যাচ বাকি এবং শালকের রয়েছে দুটি। নিয়ম অনুযায়ী লিগের শীর্ষ দুই দল সরাসরি শীর্ষ বিভাগে উন্নীত হবে।

    জয়ের নায়ক কারামান ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানালেন এভাবে, ‘এটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ক্লাব হিসেবে, শহর হিসেবে, আমাদের চারপাশের সবার জন্য আমরা অনেকদিন ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। ঘরের মাঠে শেষ ধাপটা পার করতে পেরে আমি খুবই খুশি, কারণ সমর্থকরা এটা প্রাপ্য।’ এই ম্যাচে সমর্থকদের মাঠে না নামার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল এবং নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ছিল শত শত স্টুয়ার্ড। ফলে সমর্থকরা গ্যালারিতেই আতশবাজি, গান আর উদ্‌যাপনে মেতে ওঠে।

     

    গত গ্রীষ্মে ক্রীড়া পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ব্যোমান মিরন মুসলিচকে নিয়োগ দেওয়ার পর শালকে ঘুরে দাঁড়ায়। ৪৩ বছর বয়সী মুসলিচ সংকটে থাকা দলকে উন্নীত হওয়ার প্রাপ্য দলে পরিণত করেন। শালকে এখন দ্বিতীয় বিভাগের শিরোপা জয়ের দৌড়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে আছে প্যাডারবর্ন।

    এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে জেকোর চমকপ্রদ অন্তর্ভুক্তি শালকের এই মৌসুমের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। ৪০ বছর বয়সী এই বসনিয়ান ফরোয়ার্ড লিগে ৯ ম্যাচে ৬টি গোল করেন। তবে ৩১ মার্চ ইতালির বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্লে-অফ ম্যাচে কাঁধে চোট পাওয়ার পর থেকে তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। জেকোর অনুপস্থিতিতে কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেয় অন্য সতীর্থরা। বিশেষ করে মালির ফরোয়ার্ড মুসা সিলা শেষ ছয় ম্যাচে ৩টি-সহ মোট ৭ গোল করেছেন।

    গত পাঁচ বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার দ্বিতীয় বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় উঠল শালকে। ২০২১ সালে বুন্দেসলিগা থেকে অবনমনের পর তারা পরের মৌসুমেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরে আসে, কিন্তু ২০২৩ সালে আবার অবনমিত হয়। ২০২৬-২৭ মৌসুমে আবারও তারা শীর্ষ লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

  • ৩ গোলে লিড নিয়েও হারল মেসির মায়ামি

    ৩ গোলে লিড নিয়েও হারল মেসির মায়ামি

    সবকিছু যেন ঠিক পথেই এগোচ্ছিল। নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম জয় পাওয়ার স্বপ্ন প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল ইন্টার মায়ামি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচই হয়ে উঠল এক দুঃস্বপ্ন। যেখানে ৩-০ ব্যবধানও নিরাপদ থাকল না। আর ইতিহাস লিখল প্রতিপক্ষ অরল্যান্ডো সিটি।

     

    ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি মিয়ামির দখলে। লিওনেল মেসি নিজের শততম ক্লাব ম্যাচে একটি গোলের সঙ্গে যোগ করেন ২টি সহায়তা। আর তার ছন্দে ভর করে দ্রুত ৩-০ লিড নেয় স্বাগতিকরা। ইয়ান ফ্রেই ও তেলাস্কো সেগোভিয়ার গোল যেন জয় নিশ্চিতই করে দিয়েছিল।

    কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পুরো বদলে যায়। একাই ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেন মার্টিন ওহেদা, যিনি করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। মিয়ামির রক্ষণভাগকে একের পর এক আঘাত করে তিনি দলকে ফিরিয়ে আনেন সমতায়। এরপর যোগ করা সময়ে ৯৩তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন টাইরিস স্পাইসার। আর তাতেই সম্পূর্ণ হয় অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন।

     

    ফলাফল ৪-৩। যা শুধু একটি জয় নয়, বরং লিগের ইতিহাসে বিরল কীর্তি। ৩-০ ব্যবধান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জেতা দল হিসেবে অরল্যান্ডো এখন ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল।

    এই হার মিয়ামির জন্য আরও হতাশার। কারণ, নতুন স্টেডিয়ামে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি তারা ৪ ম্যাচে ১ হার ও ৩ ড্র। অথচ এর আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে অপরাজিত ছিল দলটি, লিগেও টানা ৯ ম্যাচ হারেনি।

     

    ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি খেলোয়াড়রা। জানা গেছে, ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশে এই ফলাফলকে “গ্রহণযোগ্য নয়” বলে মন্তব্য করেছেন মেসি।

    যে রাতে মিয়ামির জন্য ইতিহাস গড়ার কথা ছিল। সেই রাতেই ইতিহাস গড়ে দিল অরল্যান্ডো। আর ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিল, শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই নিশ্চিত নয়।

  • পুত্রকে জেমসের ড্রামস বাজানো শেখানোর ভিডিও ভাইরাল

    পুত্রকে জেমসের ড্রামস বাজানো শেখানোর ভিডিও ভাইরাল

    প্রায় এক বছর বয়সি পুত্র জিবরান আনামকে কোলে নিয়ে বসে আছেন নগরবাউল জেমস। তাদের সামনে রাখা বাদ্যযন্ত্র ড্রামস। ছোট্ট জিবরানের দুই হাতে ড্রামসের দুটো স্টিক। জিবরান নিজে থেকে স্টিক দিয়ে ড্রামসে আঘাত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

     

    এরপর জেমস ছেলের হাত ধরে স্টিক দিয়ে ড্রামসে আঘাত করেন। খানিকটা বাজিও দেখান কিংবদন্তি এই তারকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ছেলের সঙ্গে তারকা বাবার এমন মিষ্টি মুহূর্ত দেখে প্রশংসায় ভাসছেন নেটিজেনরা।

     

    একজন লেখেন, “এ তো রক্তের সঙ্গে রক্তের টান।” অন্যজন লেখেন, “রকের উত্তরাধিকার যেন আগেই তৈরি হয়ে গেছে।” কেউ লিখেছেন, “রকস্টারের ছেলে, খেলনার মতোই দেখছে ড্রামসকে।” এমন অসংখ্য মন্তব্য ভাইরাল ভিডিওর কমেন্ট বক্সে শোভা পাচ্ছে।

     

    ১৯৯১ সালে অভিনেত্রী রথির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জেমস। ২০০৩ সালে এ সংসার ভেঙে যায়। ২০০০ সালে জেমসের সঙ্গে পরিচয় হয় বেনজীর সাজ্জাদের; পরবর্তীতে আমেরিকায় গিয়ে তারা বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে এই সংসারেরও ইতি ঘটে।  প্রথম সংসারে জেমসের একটি পুত্র ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সংসারে রয়েছে একটি কন্যাসন্তান।

    ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনের সঙ্গে জেমসের প্রথম পরিচয়। সেই পরিচয় থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, পরে প্রণয়। ২০২৪ সালে বিয়ে করেন তারা। ২০২৫ সালের ৮ জুন জেমস-নামিয়া দম্পতির কোলজুড়ে আসে একটি পুত্রসন্তান। এ সন্তানের নাম রাখা হয়েছে জিবরান আনাম। তার বয়স এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি।

  • ঈদে আসছে আদর-পূজার ‘নাকফুলের কাব্য’

    ঈদে আসছে আদর-পূজার ‘নাকফুলের কাব্য’

    আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘নাকফুলের কাব্য’। আলোক হাসান পরিচালিত এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ ও পূজা চেরি।

     

    বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির গল্প ও সংলাপ লিখেছেন ফেরারী ফরহাদ। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সমাজের রক্ষক বা মোড়লদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এক অমর প্রেম ও বিরহের গল্প উঠে এসেছে সিনেমাটিতে।

    যদিও এটি আদর-পূজা জুটির প্রথম কাজ হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে, এর আগে তাদের অভিনীত ‘লিপস্টিক’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে।

     

    ২০২২ সালে শ্রীমঙ্গলে শুরু হয় সিনেমাটির শুটিং, যেখানে টানা ২০ দিন চিত্রধারণ চলে। পরবর্তীতে ঢাকায় বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে আরও অভিনয় করেন গাজী রাকায়েত, লুৎফর রহমান জর্জ, আলী রাজ, এল আর খান সীমান্ত ও শিখা মৌ।

    প্রেম, সামাজিক বাধা ও মানবিক টানাপোড়েনের গল্পে নির্মিত ‘নাকফুলের কাব্য’ ঈদে দর্শকদের জন্য একটি আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে— এমনটাই আশা নির্মাতাদের।

  • কলকাতায় দেখা যাবে বুবলীর ‘ফ্ল্যাশব্যাক’

    কলকাতায় দেখা যাবে বুবলীর ‘ফ্ল্যাশব্যাক’

    দুই বছর আগে ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ সিনেমায় অভিনয় করেন শবনম বুবলী। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার ওপার বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

    জানা গেছে, আগামী মে মাসেই পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। পাশাপাশি বাংলাদেশেও সিনেমাটির মুক্তির পরিকল্পনা চলছে। এই সিনেমার মাধ্যমে টলিউডে অভিষেক হবে ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা শবনম বুবলীর। এটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের নির্মাতা রাশেদ রাহা।

    ২০২৪ সালে শুটিং শেষ হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ছিল—কবে বড়পর্দায় আসবে সিনেমাটি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

    নির্মাতা রাশেদ রাহা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শেষে খুব শিগগির আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে। এরপর বাংলাদেশে মুক্তির প্রক্রিয়াও শুরু হবে।

    থ্রিলারধর্মী এই সিনেমায় বুবলীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় নির্মাতা-অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলি এবং অভিনেতা সৌরভ দাস। চিত্রনাট্য লিখেছেন খায়রুল বাসার নির্ঝর।

    এ সিনেমায় বুবলীর চরিত্রের নাম শ্বেতা, যে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। কৌশিক গাঙ্গুলিকে দেখা যাবে অঞ্জন চরিত্রে এবং সৌরভ দাস অভিনয় করেছেন ডিকে চরিত্রে। ভিন্ন জীবনধারার তিন মানুষের গল্প একসময় গিয়ে মিশে যায় পাহাড়ি এক জনপদে, সেখান থেকেই গল্প নেয় নতুন মোড়।

    এদিকে, দেশে আগামী ৮ মে মুক্তি পাচ্ছে বুবলী অভিনীত সিনেমা ‘সর্দারবাড়ির খেলা’। লোকজ ঐতিহ্য লাঠিখেলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল রোশান। নির্মাতা রাখাল সবুজ পরিচালিত সিনেমাটিতে আরো অভিনয় করেছেন—শহীদুজ্জামান সেলিম, আজাদ আবুল কালাম প্রমুখ।

    ‘সর্দারবাড়ির খেলা’ সিনেমার প্রচারে বুবলীকে দেখা না যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই গুঞ্জন চলছে, দ্বিতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি এই অভিনেত্রী।

  • দোয়া চাইলেন অসুস্থ তানিয়া বৃষ্টি

    দোয়া চাইলেন অসুস্থ তানিয়া বৃষ্টি

    কিছুদিন আগে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। প্রথমে বাংলাদেশে অস্ত্রোপচার হয় এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে তার অস্ত্রোপচার হয়। বর্তমানে চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে।

     

    তানিয়া বৃষ্টি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। শনিবার (২ মে), এ অভিনেত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুকে তার অ্যাডমিনের পক্ষ থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তাতে জানানো হয়, তানিয়া বৃষ্টি কিছুটা অসুস্থ, সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

     

     

    লেখার শুরুতে বলা হয়েছে, “আসসালামু আলাইকুম। আমাদের সবার প্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি আপু শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতার মধ্যে আছেন। তবে চিন্তার তেমন কিছু নেই, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন।”

     

    দোয়া চেয়ে এ স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে, “তিনি তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, যেন তিনি খুব দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।”

    গত মাসের শুরুতে তানিয়া বৃষ্টির তৃতীয় অস্ত্রোপচারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখনো এটি সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে তানিয়া বৃষ্টি বলেছিলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার দ্বিতীয় সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় সার্জারিটিও করতে হবে, তবে এখনই নয়—নিউরোসার্জন প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কয়েক মাস সময় লাগবে।”

     

    মুন্সিগঞ্জের মেয়ে তানিয়া বৃষ্টি ২০১২ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন। এরপর নাম লেখান টিভি নাটকে। তবে বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে নজর কাড়েন। পরবর্তীতে অভিনয়েও নিজেকে প্রমাণ করেন।

    ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তানিয়া বৃষ্টি। এরপর বেশ কটি সিনেমায় কাজ করেন। তবে বড় পর্দার চেয়ে টিভি নাটকে অভিনয় করে অধিক খ্যাতি কুড়ান এই অভিনেত্রী।

     

    ২০১৯ সালে মুক্তি পায় তানিয়া বৃষ্টি অভিনীত ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমা। এটি তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা। দীর্ঘ বিরতির পর ফের বড় পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় তার কাজের কথাও ছিল। আর এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লেন তানিয়া বৃষ্টি।

  • ঢাকাকে চাঁদাবাজ-মাদকমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান

    ঢাকাকে চাঁদাবাজ-মাদকমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান

    রাজধানীকে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়া চক্রমুক্ত করতে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

     

    রবিবার (৩ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

     

    তিনি বলেন, “ঢাকা মহানগরী আমাদের সবার। এই শহরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১ মে  থেকে ডিএমপি মহানগরজুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।”

     

    তিনি বলেন,“ সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন, অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএমপি তাৎক্ষণিকভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—অপরাধচক্রের মূল উৎপাটন, নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকাকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা।”

    তিনি জানান, চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ব্লক রেইড পরিচালনা গোয়েন্দা নজরদারী ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে।
    ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, “গত ৪৮ ঘণ্টার আমাদের উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত এবং ৯৪ জন তালিকা বহির্ভূত চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে চাঁদা আদায়ের খাতা, লেনদেনের তথ্য, ভিডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য আলামত।এছাড়া, মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

     

    অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, সার্ভার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার, নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসিলা ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।  এসব এলাকায় চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করছে। বাজার ও জনবহুল স্থানে দৃশ্যমান পুলিশিং বৃদ্ধি করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।”

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণ নতুন এলাকা চিহ্নিত করে আরও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
    তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্দেহজনক ব্যক্তি, চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া বা প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানাতে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

     

    সংবাদ সম্মেলনে  ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম, ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম  উপস্থিত ছিলেন।