শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট
গেজেট প্রকাশ: তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, ভেঙে গেলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ পেলেন আব্দুস সাত্তার মির্জা আব্বাস-নজরুল-রিজভীসহ ১০ জনকে উপদেষ্টা নিয়োগ অবকাঠামো নয়, খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেবেন আমিনুল নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন যারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ৪১ বছর খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, প্রজ্ঞাপন জারি তার আপসহীন নেতৃত্বে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে- প্রধান উপদেষ্টা বুধবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিত, নতুন তারিখ ৫ জানুয়ারি

১৭ বছর পর মেয়েকে খুঁজে পেলেন বাবা-মা

রিপোর্টারের নাম / ২১৫ টাইম ভিউ
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে ১৭ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তানিয়া আক্তারকে (২৫) খুঁজে পেলেন বাবা-মা। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের শান্তিনগর এলাকায় মেয়ে তানিয়ার সন্ধান পান সুন্দর আলীর পরিবার।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সুন্দর আলীর মেয়ে তানিয়া আক্তার। তানিয়া এখন আখাউড়া পৌর শহরের শান্তিনগর এলাকার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। তানিয়া স্বামীর সঙ্গে সেখানেই বসবাস করছেন। এখন তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের মা। সুন্দর আলী এখন মেয়ে, জামাতা, নাতি-নাতনি নিয়ে কোটালীপাড়ায় তার গ্রামের বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাবা সুন্দর আলী বলেন, তিনি ঢাকায় একটি বাসস্ট্যান্ডের টিকিট কাউন্টারে চাকরি করতেন। ২০০৪ সালে মেয়ে তানিয়াকে ঢাকাশহর দেখাতে গ্রাম থেকে নিয়ে আসেন। তখন মেয়ের বয়স ছিল ৮ বছর। পরে মেয়েকে আগারগাঁওয়ের বোনের বাসায় রেখে জরুরি কাজে বাইরে যান সুন্দর আলী। সেখানে তানিয়া তার ফুফুর মেয়ের সঙ্গে স্কুলে গেলে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তানিয়ার সন্ধান মেলেনি। তানিয়ার সন্ধানে এলাকায় মাইকিং, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

তানিয়া আক্তার বলেন, ‘স্কুলের দরোয়ান আমাকে ভেতরে যেতে বাধা দিলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি। বাসার রাস্তা না চেনায় এক পর্যায়ে একটি বাসে করে সংসদ ভবনের কাছে আসি। সেখানে দোকানে টেলিভিশন দেখতে দেখতে রাত হয়ে যায়। তখন বাসায় যেতে অনেক কান্নাকাটি করি। কিন্তু ঠিকানা বলতে না পারায় এক হিন্দু লোক আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। পরদিন আমাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি অনেক জায়গায় খোঁজ করেন। এক পর্যায়ে কলাবাগান এলাকার আরজুদা খাতুন মিলন ও তার ছেলে রিপন আমাকে তাদের বাসায় নিয়ে আসেন। তারপর থেকে তারাই আমাকে আদর-যত্নে লালন পালন করেছেন। আমি রিপনকে বাবা ডাকি। তারা আমাকে বিয়ে দেন।’ রিপনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার রায়তলা গ্রামে।

তানিয়ার স্বামী আনোয়ার হোসেন তার ফেসবুক আইডিতে তানিয়ার ছোট বছসের ছবি পোস্ট করে বাবা-মার সন্ধান যান। আর সেই সূত্র ধরে তানিয়ার বাবা-মায়ের সন্ধান মেলে।

হারিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত শনিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বাবা-মাকে কাছে পেয়ে আবেগআপ্লুত তানিয়া আক্তার তাদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আনন্দে কাঁদেন বাবা-মা ও তানিয়ার ছোট বোনও।

তানিয়ার ছোট বোন সনিয়া খানম বলেন, ‘বোনের ছোট বয়সের অনেক স্মৃতি আমার মনে আছে। বোনকে হারানোর পর সব সময় মন খারাপ থাকতো। ভাবতাম বোনকে বুঝি কখনও পাবো না। তবে মা বলতেন- এই দেশটা ছোট, একদিন না একদিন ঠিকই তানিয়াকে খুঁজে পাবেন। আজ আমাদের সবার আশা পূরণ হয়েছে।’

বাবা সুন্দর আলী বলেন, ‘এভাবে মেয়েকে খুঁজে পাবো তা কখনও কল্পনাও করিনি। মেয়ে হারানোর পর সময় যে কত কষ্টের, তা সেই বাবা-মাই বোঝেন; যাদের সন্তান হারিয়েছে। বহু দিনের বুকের কষ্ট আজ দূর হলো।’

তানিয়ার স্বামী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি সব কিছু জেনেই তানিয়াকে বিয়ে করি। বিয়ের পর তার পরিবারের সন্ধান পেতে অনেক চেষ্টা করেছি। আল্লাহর রহমত থাকায় সেই চেষ্টা সার্থক হয়েছে। আমি খুবই খুশি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর