বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট
গেজেট প্রকাশ: তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, ভেঙে গেলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ পেলেন আব্দুস সাত্তার মির্জা আব্বাস-নজরুল-রিজভীসহ ১০ জনকে উপদেষ্টা নিয়োগ অবকাঠামো নয়, খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেবেন আমিনুল নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন যারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ৪১ বছর খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, প্রজ্ঞাপন জারি তার আপসহীন নেতৃত্বে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে- প্রধান উপদেষ্টা বুধবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিত, নতুন তারিখ ৫ জানুয়ারি

বরিশালে রাত জেগেই নগর পরিষ্কার করছে বিসিসির পরিচ্ছন্নকর্মীরা

রিপোর্টারের নাম / ২৯০ টাইম ভিউ
হালনাগাদ : শনিবার, ৯ মে, ২০২০

বরিশাল সিটি কর্পোরেশেনর পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা সংকটময় মুহুর্তেও যথানিয়মে কোন অযুহাত ছাড়াই নগর পরিষ্কারের কাজটি করে যাচ্ছেন। ফলে শহরের রাস্তাঘাটগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অর্থাৎ ঝকঝকে তকতকেই থাকছে। আর এ ঝকঝকে তকতকে রাখতে প্রয়োজনবোধে পায়ে বুট, হাতে গ্লোভস আর মুখে মুখোশও ব্যবহার করছেন তারা। যদিও সাধারণ নগরবাসীর অসহযোগিতা দুঃখ রয়েছে তাদের, তারপরও নগর পরিষ্কার রাখার কাজটিতে অনীহা নেই এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের। বরং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি, সড়কে জীবানুনাশক তরল ছিটানো, মশক নিধনে স্প্রে ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজটি করছেন পুরোদমে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা বিভাগে প্রায় ১ হাজার কর্মী রয়েছে বর্তমানে। যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ নগরের ত্রিশটি ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট ও ফুটপাত ঝাড়ু দেয়ার কাজ করেন। অপর একটি অংশ ড্রেন ও নালা পরিষ্কারের কাজ করে থাকেন। এছাড়া ছোট ভ্যান ও পিকআপে করে নগরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি এবং নির্ধারিত স্থানের ময়লা ডাম্পিং প্লেসে নেয়ার কাজটি করেন অন্য একটি গ্রুপ। এর বাহিরে সড়কে জীবানুনাশক তরল ছিটানো, মশক নিধনে স্প্রেও নিয়মিত করছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

নিয়মিত এসব কাজ করোনার সংকটময় পরিস্থিতিতেও নগরবাসীর সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বন্ধ রাখা হয়নি। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জানান, নগরকে পরিষ্কার রাখা যেমন তাদের কাজ, তেমনি একটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরবাসীর জন্য একটি সেবাও। তাই করোনার কথা চিন্তা না করে কোন অযুহাত ছাড়াই মন দিয়ে নিয়মিত কাজটি করে যাচ্ছেন।

তবে কিছু মানুষের আচরণে দুঃখও প্রকাশ করেছেন তারা। নগরের বটতলা, পুলিশ লাইন, ব্যপ্টিষ্ট মিশন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জানান, বিকেল থেকে গভীররাত অব্দি পর্যায়ক্রমে এ শহর পরিষ্কারের কাজ করেন তারা। ফলে সকালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি শহরের দেখা পান নগরবাসী। কিন্তু করোনার বর্তমান সময়ে কিছু লোক ইচ্ছে করে তাদের পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অভিযোগ বটতলা, পুলিশ লাইন এলাকার কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা আমরা ময়লা নেয়ার পরে রাস্তাঘাটের নির্ধারিত স্থানগুলোতে ময়লা ফেলছেন। তাদের অনুরোধ করার পরও এটি করে যাচ্ছেন। ওইসব লোকদের দাবি ময়লার ভেতরে এসে তারা ময়লা ফেলতে পারবে না। কিন্তু এতে আমাদের পরিশ্রমটা বৃথা হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, নগর প্রশাসনও মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র প্রতক্ষ নির্দেশনা কাজ পরিচালিত করে যাচ্ছেন। আবার মহা ক্রান্তিকালেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পিছু হটেননি। কারণ মেয়র তাদের ভালোবাসেন, তারা মেয়রকে ভালোবাসেন। একমাত্র সেরনিয়বাত সাদিক আব্দুল্লাহ যিনি দাবি তোলার আগেই পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ময়লা-আবর্জা পরিষ্কারের পাশাপাশি নগরের রাস্তাঘাট জীবানুমুক্ত রাখতে প্রতিদিন ৪০ হাজার লিটার তরল স্প্রে করা হচ্ছে। মশক নিধনে ১৮ হাজার লিটার লার্ভাসাইড ছিটানো হচ্ছে প্রতিদিন। পর্যাপ্ত অ্যাডাল্টিসাইডও রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুসারে দেয়া হবে। তবে সবকিছুর পরও নগরবাসীকে আরো সচেতন হতে হবে, নিজের বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে, সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

বিসিসি’র প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ও ভ্যাটেনারি সার্জন ডাঃ রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আন্তরিকতার সাথেই তাদের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। চালানো হচ্ছে মশক নিধন কার্যক্রমও।

উল্লেখ্য সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। যে কারণে তিনি এরইমধ্যে নগরবাসীর কাছ থেকে বেশ সুনামও কুড়িয়েছেন। আবার নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটি কষ্ট করে যে শ্রমিকরা করছেন, তাদের কষ্ট লাঘবে বেতনও সর্বোপ্রথম বড় অংকে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে বাস্তবায়ন করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর